সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার থেকে তিন জাহাজে ১২শ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ:: সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে কক্সবাজার থেকে মৌসুমের প্রথম যাত্রায় তিনটি জাহাজে ১২শ পর্যটক সমুদ্রপথে রওনা হয়েছেন। সোমবার ভোর থেকেই নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে যাত্রীর ভিড় দেখা যায়। সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ জাহাজ তিনটি একে একে ঘাট ছাড়ে।

যাত্রার শুরুতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি যাত্রীর হাতে ‘পরিবেশবান্ধব’ পানির বোতল তুলে দেওয়া হয়। টিকিট প্রদর্শন শেষে যাত্রীরা জাহাজে ওঠেন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরুপ হোসেন বলেন, প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাচ্ছি, খুব রোমাঞ্চকর লাগছে। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাও ভালো।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুবিধা থাকছে। পর্যটকদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রাভেল পাসসহ কিউআর কোডযুক্ত টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক; কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে বিবেচিত হবে।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, প্রশাসন ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দিলেও যাত্রীর অনুপাতে আজ তিনটি জাহাজ ছেড়েছে। তিনি বলেন, জোয়ার-ভাটা ও নাব্যতা বিবেচনায় যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকেলে জাহাজগুলো সেন্টমার্টিন থেকে আবার কক্সবাজারে ফিরবে।

টেকনাফ রুট বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ সমুদপথে যাত্রা কিছুটা ক্লান্তিকর হতে পারে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের পর্যটক রোকসানা আলী। তিনি বলেন, আগে টেকনাফ থেকে দ্রুত যাওয়া যেত। এখন পথটা লম্বা, তবে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।

ঘাটে প্রবেশের সময় তল্লাশি ও সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকরা যাতে নিরাপদে যাত্রা উপভোগ করতে পারেন, আমরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছি।

সেন্টমার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার গত অক্টোবর মাসে ১২টি নির্দেশনা জারি করে। রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়াফল সংগ্রহ, প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাশাপাশি মোটরযান চলাচল, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রথমদিনের যাত্রা পরিদর্শনে আসা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও নভেম্বরজুড়ে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কক্সবাজার থেকে কোনো জাহাজ চলাচল করেনি। ডিসেম্বরের শুরুতে বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় পর্যটকসমাগম আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com